ডয়চে ব্যাংকের কমোডিটিজ আউটলুক ২০২৬

শিল্পধাতুতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, জ্বালানি তেলে নিম্নমুখিতার পূর্বাভাস

২০২৬ সালে বিশ্ব পণ্যবাজারের গতিপথ নির্ধারণে অর্থনীতির সাধারণ পরিস্থিতির চেয়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও চীনের সিদ্ধান্তগুলোই বেশি ভূমিকা রাখবে।

ডয়চে ব্যাংকের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরটিতে তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো শিল্পধাতুর বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের নিম্নমুখিতা দেখা দিতে পারে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।

ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের ‘কমোডিটিজ আউটলুক ২০২৬’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রনীতি এবং বিভিন্ন দেশে বাড়তে থাকা সম্পদ জাতীয়তাবাদের (রিসোর্স ন্যাশনালিজম) কারণে বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বড় সংকটে পড়তে পারে। তবে বৈশ্বিক এ অস্থিরতার মধ্যেও সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে থাকবে চীন। দেশটি বর্তমানে ‘ইয়ার অব দ্য ফায়ার হর্স’-এ প্রবেশ করছে। এ সময়ে চীনের শিল্প উৎপাদন এবং নীতিগত পরিবর্তনের ওপরই বিশ্ববাজারের সরবরাহ ও চাহিদা অনেকাংশে নির্ভর করবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অবকাঠামো খাত ও ডিজিটাল বিপ্লবের কারণে তামার চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এ বাড়তি চাহিদার প্রভাবে ২০২৬ সালেও তামার বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। গত বছর খনি থেকে তামা উত্তোলনে সমস্যা এবং পরিশোধিত তামার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের আশঙ্কায় ধাতুটির দাম বাড়তে শুরু করেছে।

ডয়চে ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে তামার গড় দাম টনপ্রতি ১২ হাজার ১২৫ ডলারে পৌঁছতে পারে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) এর দাম সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ডলারে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

অ্যালুমিনিয়ামের বাজারেও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। চীন ২০১৭ সাল থেকে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে যে বার্ষিক সীমা (৪ কোটি ৫০ লাখ টন) নির্ধারণ করে দিয়েছে, বিশ্ববাজারে এর প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালে অ্যালুমিনিয়ামের গড় দাম টনপ্রতি ২ হাজার ৯২৫ ডলারে থাকতে পারে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি বা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনার ওপর ভিত্তি করে এ দাম যেকোনো সময় ওঠানামা করতে পারে।

আকরিক লোহার বাজারে দামের ওঠানামা বা মিশ্র প্রবণতা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে ডয়চে ব্যাংক। চীনের আবাসন খাত বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় থাকায় আকরিক লোহার চাহিদা কমছে। এতে বাজারে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পণ্য জমে থাকতে পারে। এ বাড়তি সরবরাহের চাপে ২০২৬ সালে আকরিক লোহার গড় দাম টনপ্রতি ১০২ ডলারের আশপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিল্পধাতুর দাম বাড়লেও জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের দরপতনের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে জ্বালানি তেলের দাম ১৮ শতাংশের বেশি কমেছিল। এ নিম্নমুখী ধারা ২০২৬ সালেও বজায় থাকতে পারে। মূলত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের উত্তোলন চাহিদার চেয়ে বেশি হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি গড়ে ৫৬ ডলারে নেমে আসতে পারে। তবে ডয়চে ব্যাংক এ দাম ব্যারেলে গড়ে ৬১ ডলার ৫০ সেন্ট থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে। ওপেক প্লাস ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ার ফলে বিশ্ববাজারে এর দাম আরো কমতে পারে।

ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের অ্যানালিস্ট মাইকেল হুসুয়ে বলেন, ‘বড় দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটে পড়ছে। বিশেষ করে ইরান ও চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো জ্বালানি তেলের বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।’

ডলারের বিপরীতে থাই বাতের মতো আঞ্চলিক মুদ্রাগুলোর বিনিময় হার এবং বিশ্ববাজারে চাহিদার পরিবর্তন পণ্যমূল্য আবার স্থিতিশীল করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও